লামায় বিরোধপূর্ণ দোকানের তালা ভাঙায় প্রশ্ন, তদন্ত কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়ে বিতর্ক
নিউজ-বিশেষ প্রতিনিধি, মাসুদ পারভেজ। দৈনিক দেশের নিউজ।
বান্দরবানের লামা বাজারে একটি দোকান প্লট নিয়ে চলমান মামলার মধ্যে তদন্ত কর্মকর্তার তালা ভাঙার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা ও প্রশ্নের সৃষ্টি হয়েছে। মামলার বিবাদী ব্যবসায়ী আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন, আদালতের স্পষ্ট নির্দেশনা ছাড়া তদন্ত কর্মকর্তা কীভাবে বিরোধপূর্ণ দোকানের তালা ভাঙতে পারেন—তা নিয়ে আইনি প্রশ্ন উঠেছে।
জানা যায়, ২০২৩ সালের ২৬ জুলাই কাপড় ব্যবসায়ী আব্দুল মাবুদ-এর কাছ থেকে ৩৪ লাখ টাকায় ১৭৪ বর্গফুটের একটি দোকান প্লট ক্রয় করেন আলমগীর। নোটারী পাবলিক কার্যালয়ে সম্পাদিত চুক্তিনামার মাধ্যমে তিনি দোকানের দখল গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে একই বছরের ১ আগস্ট বিক্রেতা আব্দুল মাবুদকে মাসিক ৬ হাজার টাকায় ভাড়া প্রদান করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, কিছুদিন পর আব্দুল মাবুদ ভাড়া প্রদান বন্ধ করে দেন এবং দোকানটির মালিকানা দাবি করতে শুরু করেন। এ নিয়ে বিরোধ সৃষ্টি হলে ২০২৪ সালের ২৫ এপ্রিল আলমগীর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি পিটিশন মামলা দায়ের করেন।
মামলার শুনানি শেষে ২০২৫ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর আদালত আদেশে উল্লেখ করেন যে, সংশ্লিষ্ট জমিতে বাদীর দখল রয়েছে এবং শান্তি-শৃঙ্খলা রক্ষার্থে বিবাদীপক্ষকে সেখানে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় আব্দুল মাবুদ দোকানটি আলমগীরের কাছে ছেড়ে দেন। তবে চার মাসের বকেয়া ভাড়ার বিপরীতে কিছু কাপড়ের বান্ডিল দোকানে রেখে যান বলে জানা গেছে।
এদিকে নামজারি সংক্রান্ত বিষয়ে অতিরিক্ত ১০ লাখ টাকা দাবি এবং হুমকির অভিযোগে আলমগীর আরও একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করেন, যা বর্তমানে তদন্তাধীন। পাশাপাশি দেওয়ানি আদালতেও স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা চেয়ে একটি মামলা বিচারাধীন রয়েছে।
অপরদিকে আব্দুল মাবুদও পাল্টা মামলা দায়ের করলে আদালত সেটিকে এফআইআর হিসেবে গ্রহণের নির্দেশ দেন। গত ১৫ মার্চ লামা থানা মামলাটি নথিভুক্ত করে এবং সাব-ইন্সপেক্টর এসএম গোলাম কিবরিয়াকে তদন্ত কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ঘটনার নতুন মোড় নেয় ২৬ মার্চ সন্ধ্যায়, যখন একটি ভিডিওতে দেখা যায় তদন্ত কর্মকর্তা সংশ্লিষ্ট দোকানে গিয়ে শ্রমিকের মাধ্যমে বৈদ্যুতিক যন্ত্র ব্যবহার করে তালা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন এবং কিছু মালামাল গণনা করেন।
এ ঘটনায় বাদী-বিবাদী উভয় পক্ষের অনুপস্থিতিতে এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া তালা ভাঙা কতটা আইনসঙ্গত—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্টরা।
তদন্ত কর্মকর্তা এসএম গোলাম কিবরিয়া এ বিষয়ে বলেন, “মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং দোকানের ভেতরের মালামালের তালিকা প্রস্তুতের জন্য তালা ভাঙা হয়েছে।” তবে আদালতের কোনো নির্দেশনা ছিল কি না—এ বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কোনো জবাব দেননি।
থানার এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, মামলায় চুরির ধারা থাকায় তদন্তের প্রয়োজনে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
এ বিষয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ছুটিতে থাকায় তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনাটি নিয়ে এলাকায় আইনগত ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।