আহসান হাবিব এর পুরো ফ্যামিলি টাই যেন অপরাধ এর তুলিতে আকা একটি ক্রাইম মানচিত্র।
নেপথ্য : আইনের শাসন বাস্তবায়িত না হওয়ায়, বেড়েই চলেছে আহসানদের মত লেবাসধারী প্রতারকচক্রের।
মাহবুব হাসানের প্রতিবেদনে দেখুন ডেস্ক রিপোর্ট।
বিস্তারিত : আহসান হাবিব, দুর থেকে প্রথম দেখায় মনে হবে কোন পীর দরবেশ কিংবা আউলিয়ার বংশধর। তবে প্রথম দেখার পর তার ' কুদরতি ' কালো যাদু আপনাকে মতিভ্রম করবে, আপনার মনে হবে আপনিই সেই ভাগ্যবান, যিনি স্বপ্নে নয় বাস্তবেই দেখা পেয়ে গেছেন " অলৌকিক " কোন মায়াজাল এর আশীর্বাদ।
ঠিক তেমনটাই হয়েছিল শারমিন কিংবা রুমেল সহ প্রায় শতাধিক নীরিহ ভুক্তভোগীদের সাথে। বিনিয়োগের প্রায় ৩০% লভ্যাংশের লোভনীয় অফারে শারমিন রুমেল বিনিয়োগ করে ২০ লাখ করে ৪০ লাখ টাকা। মাত্র ১৫ দিনেই পেয়ে যায় ৪ লাখ টাকা লাভসহ বিনিয়োগ, স্বপ্ন দেখতে শুরু করে পৃথিবীতে স্বচ্ছল হয়ে সন্তান পরিবারকে নিয়ে বাচার। আর সেই স্বপ্নই আজ তাদের জীবনে হয়েছে দু:স্বপ্নের আতংক।
প্রথমবার বিশ্বাস অর্জন শেষে সামনে আসে আহসানদের মত ভন্ড " যাদুবাবার ভয়ংকর মধুলীলা " দ্বিতীয়বার বিশ্বাস করে সপে দেয় ১ কোটিরও বেশি মুনাফা, নিজের জমিজমা, ভিটেমাটি সব বিক্রি করে তুলে দেয় আহসান হাবিব ও তার পুরো বাটপারি মশল্লা দিয়ে তৈরী পুরো ফ্যামিলি,সিন্ডিকেট। যার কিছু অডিও রেকর্ড এসেছে এই প্রতিবেদক এর হাতে। যেখানে আহসান হাবিব এর পরিবারকে বলতে শোনা যায় ( ভুক্তভোগী) রুমেল এর থেকে পা ধরে আরও ১০ লাখ টাকা দেয়ার জন্য। বেচারা রুমেল তখন অলরেডি বলি কিংবা কোরবানির জন্য নির্বাচিত হয়ে আছে।আর এই ১০ লাখ নতুনকরে রুমেল এর থেকে নেয় ' রামের বিশ্বস্ত সীতা" ওরফে রহিমা খাতুন। কারন অন্য একটি প্রতারনার মামলায় তার চরম গুণধর স্বামী " লখিন্দর তখন জেলখানার ভেলায় ভাসছে। আর এতটা উপকারের পর গত ১৬ ই জুলাই কিছু টাকা ফেরতের কথা বলে মিরপুর ইসিবি চত্বরে ডেকে নেয়া হয়, শারমিন, রুমেল ও রুমেল এর পরিবারকে। কিন্তু ভুক্তভোগী শারমিন রা তখনো জানতো না " লংকাপুরী ইসিবি চত্বরে সেদিন প্রহসন এর নির্মম, নির্লজ্জ ঝান্ডা হাতে তাদেরই জন্য আগে থেকেই অপেক্ষায় ছিল " চিরচেনা রাবনের চরিত্রে পল্লবী থানার এসআই সাইফুল এর অসুরবাহিনী।
ইতিহাসের কলংকিত পলাশীর মতই স্ক্রিপ্ট সাজানো ছিল। ৯৯৯ এ নাকি সেবা সার্ভিস এর কল পেয়ে আসে এসআই সাইফুল। তবে প্রকৃত ঘটনা সেই প্রহসন আর তামাশায় ভরা ছিল মীরজাফর এর সিংহাসন আরোহণ এর ছোটবেলার ইতিহাস এর মতই। ৯৯৯ এ কল দিয়ে যেখানে ঠিকমত একজন এসআই পাওয়া মুশকিল, সেখানে এসআই সাইফুল এর বিশাল বরযাত্রার পালকিবাহক রা ছিল এসআই প্রিয়তুস এর মত আরও একাধিক এসআই বাহিনীর কসাই নকশা। মোটা অংকের লেনদেনে সেদিন বিক্ষত হয়েছিল " সংবিধান এর দেয়া " শান্তি - শপথে - বলীয়ান " তথা বাংলাদেশ পুলিশের পবিত্র শ্লোগান।
প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছিল সেদিন পল্লবী তথা আহসানদের " নিরীহ মারো সিন্ডিকেট "দাপ্তরিক কার্যালয়। মানবতা সেদিন পরাজিত হয়েছিল " পল্লবী পুলিশ তথা আহসানচক্রের মালিশ বাহিনী তে। মিথ্যা মামলায় ফাসিয়ে জেলে পাঠানো হয় ভুক্তভোগী দের। তবে ভুক্তভোগী দের চোখের জল যত গড়াবে, ততই ডলারের মত কারেন্সি বাড়বে এসআই সাইফুল'দের মত অপদার্থ অফিসার দের। তবে সাহসী কিছু সাংবাদিকের প্রচেষ্টায় প্রকৃত ঘটনা আজ উন্মুক্ত। মামলার আরও বাকী দুজন আসামীদের তথ্য নিতে গেলেও এসআই সাইফুল আইনের " হ য ব র ল " কীর্তন শেখায় ভুক্তভোগী শারমিন কে। সত্যি হলো এটাই যে বাকী ২ জনকে বলির পাঠার সিরিয়ালে না রাখলে হয়তো পূর্নতা আসবেনা এই লক্ষাধিক টাকায় সাজানো অপহরণ নাটক।
( চলবে।