পরকীয়ার নিয়ন্ত্রণহীন জোয়ারে ভাসছে দেশ, বাড়ছে ডিভোর্স, জিতে যাচ্ছে স্বামী অথবা স্ত্রী শুধু হেরে যাচ্ছে সন্তান রা।
নেপথ্যে : পারিবারিক শিক্ষার অভাব, সামাজিক সচেতনতা এবং পরকীয়ার মত একটা অবৈধ সম্পর্কের বিষয়ে সংবিধানের পর্যাপ্ত আইনের ধারার অভাব।
অনুসন্ধানী সাংবাদিক মাহবুব হাসানের প্রতিবেদনে দেখুন ডেস্ক রিপোর্ট।
বিস্তারিত : ভয়ংকর মাদকের মতই আগ্রাসী আকার ধারন করছে পরকীয়া। পারিবারিক, সামাজিক এবং নৈতিক শিক্ষার অভাব থেকেই বাড়ছে মহামারি আকারে এই পরকীয়া। ভয়ংকর ভাবে বাড়ছে ডিভোর্স। বাংলাদেশ পরিবার পরিকল্পনা অধিদফতর এবং বাংলাদেশ কাজী
অফিসের নিয়ন্ত্রক আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের এক প্রাথমিক জরিপে দেখা গেছে গত ২০১৫ থেকে ২০২০ পর্যন্ত বাংলাদেশে নিকাহ ও তালাক রেজিস্টারে প্রায় ৫ লাখ ৭৭ হাজার ৬৩০ টি তালাক রেজিস্ট্রি হয়েছে কিন্ত গত ২০২১ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত এ সংখ্যা বেড়ে দাড়িয়েছে ১৯ লাখ ৫৩ হাজারের কাছাকাছি আরও ভয়ংকর তথ্য হচ্ছে এরমধ্যে ১৩ লাখেরও বেশি তালাক রেজিস্ট্রি হয়েছে শুধুমাত্র পরকীয়া জনিত। পরকীয়া একটি মানসিক রোগ এর শেষ পরিনতি ডিভোর্স বা তালাক আর বেশিরভাগই তালাকের নোটিশ আসছে চলে যাওয়ার পর যা সম্পুর্ন শরীয়া বিরোধী। আর এই তালাকের ফলে বাবা মা দুজনেই হয়তো জিতে যায়, শুধু হেরে যাচ্ছে নিষ্পাপ সন্তান। হয়তো বাবা নয়তো মা যেকোন একজনকে হারাতে হচ্ছে।
এমনি এক লোমহর্ষক পরকীয়ার ঘটনা ঘটেছে ভুক্তভোগী একজন সাংবাদিকের জীবনে। নারায়নগন্জের রুপগন্জের সনি এলাকার চান মিয়ার মেয়ে শারমিন আক্তার।যার মায়াবী রুপের বিষাক্ত ছোয়ায় এ পর্যন্ত ধ্বংস হয়েছে একাধিক জীবন। মাত্র ১৪ বয়সেই শারমিন এর বিয়ে হয় প্বার্শবর্তী একটি গ্রামে, সেখানও তার চারিত্রিক সমস্যার জন্য সে টিকতে না পেরে তার যাদুর শিকারে পরিনত করে উক্ত সাংবাদিক কে। বিয়ের পর ওই সাংবাদিক জানতে পারে শারমিন এর পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িত আর এখান থেকেই সূত্রপাত। তারপরও দীর্ঘ নয় বছরের সংসারে আসে একজন পুত্র সন্তান। সাংবাদিক হয়তো ভেবেছিল সন্তানের মুখের দিকে তাকিয়ে সব ঠিক হয়ে যাবে, কিন্ত না চোর যেমন শোনেনা ধর্মের কথা তেমনি চরিত্রহীনা নারীূদের স্বয়ং ফেরেশতার পক্ষেও বোঝানো সম্ভব নয়। ওই সাংবাদিকের সরলতা এবং বিশ্বাসের সুযোগে শারমিন দিনের পর দিন পরকীয়া নামক অবৈধ মেলামেশা শুরু করে এবং একসময় সাংবাদিকের ঘর থেকে মুল্যবান সামগ্রী কাপড়চোপড় সহ তারই নামে বারিধারা ব্যাংকের দশলাখ টাকা যে টাকাটা ওই সাংবাদিকই শারমিন এর নামে রেখেছিল সুন্দর ভবিষ্যৎ এর জন্য। ওই ব্যাংকের স্টেটমেন্ট থেকে শুরু করে সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায় শারমিন নিজেই ওই টাকা উত্তোলন করে। তারপর সেই পরিসংহার। সাত বছরের নিষ্পাপ শিশুর কেনাকাটার কথা বলে পালিয়ে যায় যশোরের মনিরামপুরের সাগর নামের এক প্রতারক এর সাথে। কে এই সাগর, কখনো নিজেকে সাবেক পুলিশের এসআই, কখনো ডিপ্লোমা ইন্জিনিয়ার আবার কখনো বিদেশ লোক পাঠানোর এজেন্সির বিশাল কর্ণধার। তবে সম্প্রতি কালিয়াকৈর এলাকায় প্রায় ১১ জন ভুক্তভোগী কে ফিজি পাঠাবে বলে তাদের থেকে প্রায় ১৮ লাখ ৫০ হাজার টাকা নিয়ে জৈনাবাজার এলাকা থেকে পালিয়ে যায়। বিষয়টি ইতিমধ্যেই ময়মনসিংহ জেলা ডিবি কার্যালয়ে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। আর এখানেই শেষ নয়। শারমিন এর আগের স্বামী সেই সাংবাদিক ছেলের মুখের দিকে তাকিয়ে ২ দিনের জন্য ছোট ছেলেকে তার মায়ের কাছে পাঠিয়েছিল বিশ্বাস করে। সেখানেও চরম বেইমানির পরিচয় দেয় এই সাগর শারমিন নামের প্রতারক দম্পতি। প্রায় ২ মাস ধরে ছেলেকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করে সাংবাদিকের থেকে হাতিয়ে নেয় প্রায় লক্ষাধিক টাকা যার বিকাশ স্টেটমেন্ট এই প্রতিবেদক এর কাছে এসে পৌঁছেছে।
নিরুপায় সাংবাদিক এখন প্রশাসন ও মিডিয়ার শরণাপন্ন হয়েছে শুধু তার ছেলেকে উদ্ধারের জন্য।
তাই সসরকারের প্রতি বিশেষভাবে দাবী এই পরকীয়া নামক ব্যাভিচারের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রণয়ন এর যেন নিষ্পাপ সন্তান গুলো তাদের শৈশবকাল টা অন্ধকারাচ্ছন্ন না হয়। মাদকের মতই পরকীয়ার বিরুদ্ধে গড়ে উঠুক প্রতিরোধ।