
সত্য সংবাদ প্রকাশে সাংবাদিকদের উপর হামলা-মামলা বাড়ছে সুরক্ষা আইন বাস্তবায়নের দাবি
গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে স্বাধীনভাবে কাজের পরিবেশ দিতে রাষ্ট্র ও সমাজের প্রতি আহ্বান। মোঃ নাসির উদ্দীন গাজী, দৈনিক দেশের নিউজ এর সম্পাদক ও সাংবাদিক।
*ডেস্ক রিপোর্ট -দৈনিক দেশের নিউজ*
সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশের কারণে দেশের বিভিন্ন স্থানে সাংবাদিকরা এখন হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানির শিকার হচ্ছেন। সাম্প্রতিক বিভিন্ন প্রতিবেদন ও পরিসংখ্যানে দেখা যাচ্ছে, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা ক্রমশ বাড়ছে।
২০২৫ সালের বিভিন্ন সময়ে শতাধিক সাংবাদিক হামলা, মামলা ও পেশাগত বাধার সম্মুখীন হয়েছেন বলে বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সংগঠনের তথ্যে উঠে এসেছে। ২০২৬ সালেও একই পরিস্থিতি চলমান রয়েছে।
সাংবাদিকরা গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভ। তাদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব। কিন্তু সংবাদ সংগ্রহ ও প্রকাশের কারণে কোনো সাংবাদিক যেন নির্যাতন, হয়রানি বা বৈষম্যের শিকার না হন, সে বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি হয়ে পড়েছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন দ্রুত বাস্তবায়ন করা প্রয়োজন। একইসাথে সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়নের জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে। চতুর্থ স্তম্ভ হিসেবে গণ্য করা হলেও সাংবাদিকদের গ্রেড বা পদমর্যাদা নিয়ে এখনো প্রশ্ন উঠে আসছে। এসব বিষয় নিয়ে গেজেট প্রকাশ করে সাংবাদিকদের সুরক্ষায় যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
রাষ্ট্রযন্ত্র ও সংসদে সাংবাদিক নিয়ে আলোচনা হলেও সাংবাদিকদের জন্য যথাযথ আইন বাস্তবায়ন নিয়ে কথা বলা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
*দুর্নীতি নিয়ে লিখলেই ‘উন্নয়নের পথে বাঁধা’?*
অনেক ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে, টাকা দিয়ে সবাইকে চুপ করিয়ে রেখে রাস্তায় লোহার রডের বদলে বাঁশ দেওয়া যায়। কিন্তু সাংবাদিকদের টাকা দিয়ে সেটা করা যায় না বলেই তারা উন্নয়নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান বলে সংসদে আলোচনা ওঠে।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাজে মাটি খুঁড়লেই দুর্নীতি বের হয়ে আসে। দুই ফিট বালুর জায়গায় আধা ফিটও দেওয়া হয় না। এক নাম্বার ইটের জায়গায় ছয় নাম্বার ভাঙা ইট দিয়ে কাজ করা হয়। বারো মিলি রডের জায়গায় আট মিলি রড ব্যবহার হয়।
এসব অনিয়ম নিয়ে কথা বলা সাংবাদিকরাই উন্নয়নের পথে বাঁধা হয়ে দাঁড়ান। অথচ সাংবাদিক ছাড়া এগুলো প্রকাশ করার মতো কেউ নেই। দুঃখজনক হলেও সত্য, এটা নিয়ে সংসদে একবারও আলোচনা হয় না।