
ঠান্ডা মাথায় ছদ্মবেশে সিরিয়াল কিলার সম্রাট, সাভারে সাত মাসে ৬ খুন: পুলিশ।
শেখ শহিদুল ইসলাম মিঠু, বিশেষ প্রতিনিধি, নিউজ- দৈনিক দেশের নিউজ।
অনেকটা মানসিক রোগীর মত আচরণ করলেও খুব ঠান্ডা মাথায় এক বৃদ্ধা এক নারী ও এক কিশোরী সহ ৬ জনকে খুন করেছেন মশিউর রহমান ওরফে সম্রাট( ৪০) প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি এসব খুনের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ,
পুলিশ সাভার থানার সামনে থেকে গতকাল রোববার বিকালে সম্রাটকে আটক করে, রোববার দুপুরে সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতর থেকে এক কিশোরী সহ দুইজনের পোড়া লাশ উদ্ধারের ঘটনায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, আজ সোমবার তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতে সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে,
গ্রেফতার দেখানো হয়েছে, আজ সোমবার তাকে ঢাকার চিফ জুডিশিয়াল আদালতের সোপর্দ করে ১০ দিনের রিমান্ডের আবেদন জানানো হয়েছে,
কমিউনিটি সেন্টার থেকে লাশ উদ্ধারের ঘটনায় সাভার থানার উপ পরিদর্শক (এসআই) সাখাওয়াত ইমতিয়াজ বাদী হয়ে গতকাল রোববার রাতে মামলা করেন, মামলায় সম্রাটসহ আর ও অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে, ওই কমিউনিটি সেন্টার থেকে গত বছরের আগস্ট থেকে চলতি জানুয়ারি পর্যন্ত পাঁচটি লাশ উদ্ধার করা হয়েছে,
আজ সোমবার দুপুরে সাভার থানা চত্বরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ঢাকার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার( ক্রাইম অপস এন্ড ট্রাফিক উত্তর) আরাফাতুল ইসলাম এসব তথ্য দেন,
আরাফাতুল ইসলাম বলেন, সম্রাট পাগলের মতো আচরণ করলেও তিনি পাগল নন, সাইকো টাইপের (মানসিক বিকারগ্রস্ত) এই সম্রাট একে একে ছয়টি খুন করেছেন, তার পুর্ণ পরিচয় পাওয়া যায়নি, প্রত্যেকেই শ্বাস রোধ করে হত্যার পর তিনজনের লাশ আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেন, তাদের মধ্যে মাত্র একজনের পরিচয় পাওয়া গেছে,
তিনি বলেন, প্রাথমিক তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, সম্রাট প্রথম খুন করেন ২০২৫ সালের ৪ জুলাই, ওই দিন রাতে সাভার মডেল মসজিদের সামনে আসমা বেগম নামে এক বৃদ্ধাকে শ্বাস রোদ করে হত্যা করেন, পরবর্তীতে ওই বছর ২৯ আগস্ট সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারের পরিত্যক্ত ভবনের ভেতরে এক যুবককে হত্যার পর লাশ পুড়িয়ে দেন, এর প্রায় এক মাস পর ১১ অক্টোবর আর ও এক নারীর লাশ উদ্ধার হয়, কমিউনিটি সেন্টারের ভেতর থেকে তাকেও সম্রাট হত্যা করেন বলে স্বীকার করেছেন, গত বছর ২৯ ডিসেম্বর ওই কমিউনিটি সেন্টারের ভেতরেই আর-ও এক যুবককে হত্যা করেন সম্রাট, সর্বশেষ গত শনিবার রাতে এক কিশোরীসহ দুইজনকে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেন,
হেলাল উদ্দিন আরো ও বলেন , সম্রাট দেড় বছরের বেশি সময় ধরে থানার আশপাশে ঘোরাফেরা করতেন, একেক দিন একেক রকম পোশাক পড়তেন, তিনি কিছুটা অগোছালো কথাবাত্রা বলতেন,এ কারণে সবাই তাকে পাগল মনে করতেন, আসলে তিনি পাগল নন,
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আশরাফুল ইসলাম বলেন, ডিমান্ডমঞ্জুর হলে থানায় এনে সম্রাটকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে, ছয়টি হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি আরোেও কোন হত্যার সঙ্গে তিনি জড়িত কিনা তা খতিয়ে দেখা হবে, এ ছাড়া এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরো ও কেউ জড়িত আছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে