
মাছ চাষে কারিগরি দক্ষতা বৃদ্ধি বিষয়ক মৎস্যচাষী প্রশিক্ষণ
মোঃ সাইফুল ইসলাম বিশেষ প্রতিনিধি বিরল দিনাজপুর
৭ মে ২০২৬ ইং, সকাল ১১:৩০ ঘটিকায় দিনাজপুরের বিরল এ ব্র্যাক� ফিশারিজের উদ্যোগে “বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ বিষয়ক মৎস্য চাষি প্রশিক্ষণ কর্মশালা–২০২৬” অনুষ্ঠিত হয়। প্রশিক্ষণ কর্মশালায় উপজেলার বিভিন্ন এলাকার মৎস্য চাষিরা অংশগ্রহণ করেন।
উক্ত কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা মৎস্য অফিস বিরল এর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ আবুল কালাম আজাদ, উপজেলা মৎস্য অফিস বীরগঞ্জ এর সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জনাব মোঃ ফজল ইবনে কাওছার আলী, ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ বীরগঞ্জ এর হ্যাচারি ম্যানেজার জনাব মোঃ আশরাফুল এমরান এবং ব্র্যাক ফিশারিজ এন্টারপ্রাইজ দিনাজপুর ও নীলফামারীর অফিসার সেলার জনাব মোঃ আলী হাফেজ আকাশ। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন বিরল উপজেলার বিভিন্ন মৎস্য চাষিরা।
প্রশিক্ষণে বক্তারা মৎস্য চাষিদের উদ্দেশ্যে বলেন, বছরে অন্তত দুইবার পুকুরে চুন প্রয়োগ করতে হবে—একবার পুকুর প্রস্তুতির সময় এবং দ্বিতীয়বার নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে। এছাড়াও পুকুরের পানি ও মাছের সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে অ্যামোনিয়া নাশক, সুমিথিয়ন এবং প্রোবায়োটিক ব্যবহারের পরামর্শ প্রদান করা হয়।
প্রশিক্ষণে মাছ চাষের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ৪টি বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়ঃ
১। সঠিক পুকুর ব্যবস্থাপনা
উৎপাদনের শুরুতে পুকুর শুকিয়ে অন্তত ১ সপ্তাহ রোদ লাগাতে হবে।
নির্ধারিত হারে চুন প্রয়োগ করতে হবে।
আগাছা ও অবাঞ্ছিত মাছ অপসারণ করতে হবে।
পরিষ্কার ও দূষণমুক্ত পানি ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে।
২। ভালো মানের রেনু ও পোনা নির্বাচন
স্বীকৃত ও বিশ্বস্ত হ্যাচারি/নার্সারি থেকে পোনা সংগ্রহ করতে হবে।
সমান আকারের ও রোগমুক্ত পোনা নির্বাচন করতে হবে।
সতেজ ও সুস্থ রেনু-পোনা নিশ্চিত করতে হবে।
৩। মানসম্মত খাবার নিশ্চিতকরণ
সঠিক সময়ে সঠিক পরিমাণ খাদ্য প্রদান করতে হবে।
নিবন্ধিত ও নির্ভরযোগ্য কোম্পানির মানসম্পন্ন খাদ্য ব্যবহার করতে হবে।
প্রতি ১৫ দিন পরপর মাছের স্যাম্পলিং করে এফসিআর নির্ধারণ করতে হবে।
৪। জৈব নিরাপত্তা ও সামগ্রিক স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা
নতুন পোনা ৭–১৪ দিন আলাদা পুকুরে পর্যবেক্ষণে রাখতে হবে।
দূষিত ও বাইরের অনিরাপদ পানি প্রবেশ বন্ধ রাখতে হবে।
মৃত মাছ দ্রুত অপসারণ করে মাটিতে পুঁতে ফেলতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে মাছ চাষ এবং প্রশিক্ষণে প্রদত্ত নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করলে মৎস্য চাষিরা অধিক উৎপাদনের পাশাপাশি আর্থিকভাবে অনেক বেশি লাভবান হতে পারবেন।