
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে বাড়ছে ড্রাগন চাষ
মাসুদ পারভেজ
প্রতি বছর বাড়ছে উৎপাদন
চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ডে বাড়ছে ড্রাগন চাষ…
ইউটিউবে ড্রাগন চাষ দেখে উদ্বুদ্ধ হন নাজমুল। স্থির করেন তিনিও ড্রাগন চাষ করবেন। যেই ভাবা সেই শুরু। ২০২৩ সালে কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে পাহাড়ের তলদেশে ৬০ শতক আয়তনের একটি জমিতে ড্রাগন চাষ শুরু করেন। সেই থেকে আর পেছনে ফিরতে হয়নি। পরের বছর থেকেই গাছে ড্রাগন ধরতে শুরু করে। বর্তমানে প্রতি মৌসুমে ৭-৮ লাখ টাকারও বেশি আয় করছেন এই ড্রাগন থেকে। শুধু তাই নয়, এখানে তার অধীনে কর্মসংস্থান হয়েছে পাঁচজনের।
সফল এই ড্রাগন চাষীর পুরো নাম মো. নাজমুল হোসেন। তিনি সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারি ইউনিয়নের বাসিন্দা। আর তার এই ড্রাগন বাগানটি গড়ে তোলা হয়েছে একই মাদামবিবিরহাট নৌবাহিনী রোডে পাহাড়ের তলদেশে।
সরেজমিনে ঐ জমিতে গিয়ে দেখা যায়, কর্মীরা সবাই ড্রাগন তোলা ও বিক্রির প্রক্রিয়া করা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। আর ড্রাগন পরিচর্যা করছেন নাজমুল নিজে। দেখা যায় প্রতিটি গাছেই রঙিন বড় বড় ড্রাগন ফল ঝুলছে। সবুজ গাছে লালছে ড্রাগনগুলো যেন বাগানটির সৌন্দর্য্য করে তুলেছে অপরুপ।
কৃষি উদ্যোক্তা নাজমুল হোসেন বলেন, ২০২৩ সালে আমি ইউটিউবে প্রথমবার ড্রাগন চাষের বিস্তারিত একটি ভিডিও দেখে উদ্ধুদ্ধ হই। এরপর আমি ছুটে যাই উপজেলা কৃষি অফিসে। সেখানে ড্রাগন চাষে আগ্রহের কথা জানালে তৎকালীন কৃষি কর্মকর্তা মো. হাবিবুল্লা আমাকে উৎসাহিত করেন, চারা সংগ্রহে সহযোগিতা ও পরামর্শ দেন। আমি ৩ হাজার ড্রাগনের চারা নিয়ে একটি বাগান তৈরির কাজ শুরু করি।
এসময় ভাটিয়ারি ইউনিয়নের দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শিরিন আক্তার পলি নিয়মিত উপস্থিত থেকে সহযোগিতা করেছেন। তাদের পরামর্শ, সহযোগিতা আর আমার পরিশ্রমে পরের বছরই আমরা বাগান থেকে ড্রাগন পেতে শুরু করি। তিনি বলেন, ড্রাগন বিক্রি প্রতিবছর বাড়ছে। ২০২৪ সালে প্রথম বছরে তিনি বিক্রি করেছেন ৪ লাখ টাকার ড্রাগন। ২০২৫ সালে ৮ লাখ টাকার মতো বিক্রি করেছেন আর এবার যত ড্রাগন ধরেছে এই মৌসুমে অন্তত ১০ লাখ টাকার ড্রাগন বিক্রি হবে বলে তিনি আশাবাদী। আর ১০ লাখ টাকা বিক্রি হলে খরচ বাদ দিয়েও আয় হবে অন্তত ৮ লাখ টাকা। প্রতিবছর নভেম্বর মাস পর্যন্ত ড্রাগন বিক্রয় হয়।
তিনি বলেন, আমি প্রাকৃতিকভাবে শুধুমাত্র জৈব সার এবং প্রাকৃতিক বালাই নাশক ব্যবহার করে ড্রাগন উৎপাদন করি। এগুলো খেতে খুব সু-স্বাদু। চামড়া কলার খোসার মতো এত পাতলা যে খুব সহজেই তা ছাড়িয়ে খাওয়া যায়। যারা একবার এ ড্রাগন নেন তারা আবারো আসেন। এটাই ভালো লাগে।
নাজমুল বলেন, উৎপাদিত বেশিরভাগ ড্রাগন তিনি চট্টগ্রামে পারিবারিক সুপারশপ বাস্কেটে এবং অল্প কিছু বাইরেও বিক্রি করেন। প্রতিকেজি ড্রাগন মৌসুমের শুরু ও শেষে ৩৫০-৪০০ টাকায় এবং মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে প্রতি কেজি ১৫০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়। তিনি ড্রাগন চাষের একটি সমস্যার কথা উল্লেখ করে বলেন, দেশে সব ড্রাগন একই সময়ে উৎপাদিত হওয়ায় অনেক সময় বাজারে চাহিদার চেয়ে বেশি চলে এসে দাম কমে যায়।
এ ড্রাগন যদি সংরক্ষণ কিংবা বাইরে রপ্তানির ব্যবস্থা সরকার করত তাহলে বৈদেশিক মুদ্রা আয়ের সাথে সাথে সকল কৃষক লাভবান আরো হতো। নাজমুল বলেন, বর্তমানে এই জমিতে দুইজন স্থায়ী ও তিনজন অস্থায়ী মানুষ কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। তিনি অল্প সময়েই এ বাগানটিকে বড় করে আরো অনেক মানুষের কর্মসংস্থান সংস্থান করতে চান।
নাজমুলের এই ড্রাগন চাষ সম্পর্কে ঐ এলাকার দায়িত্বে থাকা উপ-সহকারী কৃষি অফিসার শিরিন আক্তার পলি বলেন, শুরু থেকেই তৎকালীন কৃষি অফিসার হাবিবুল্লা স্যার ও আমি এই বাগানটি গড়তে সহযোগিতা করে গেছি। তার ড্রাগনগুলো অনেক মিষ্টি। সচরাচর ড্রাগন এতটা মিষ্টি হয় না। তার উপর প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাগান হওয়ায় এগুলো বেশ স্বাস্থ্যকর। বর্তমানে সীতাকুণ্ডের বাণিজ্যিক বাগানের মধ্যে এটিই সবচেয়ে সফল। তাই আমাদেরও খুব ভালো লাগে।
Wenn es darum geht, eine sichere und transparente Plattform für das Spiel um echtes Geld zu wählen, vertrauen viele erfahrene Spieler aus dem gesamten deutschsprachigen Raum inzwischen auf caseawin.com/de, denn dort finden sie geprüfte Lizenzen, schnelle Zahlungsmethoden und einen umfangreichen, regelmäßig aktualisierten Spielekatalog für jeden Geschmack und jedes Erfahrungslevel gleichermaßen.